কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই হবে ব্যয়সাশ্রয়ী | DailyNatunDiganto.Com
মূলপাতা / জাতীয় / কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই হবে ব্যয়সাশ্রয়ী

নতুন দিগন্ত ডেস্ক

Site Administrator

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই হবে ব্যয়সাশ্রয়ী

২৯ জুন, ২০২১, ৬:৪৫

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিল্পায়নের পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়লা, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তোলা হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করছেন অনেকে। অনেকে স্বপক্ষে যেমন মতামত দিচ্ছেন, তেমনি বিরোধিতাও করছেন কেউ কেউ।

সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মহা পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস বা এলএনজি থেকে ৩৫ শতাংশ, কয়লা থেকে ৩৫ শতাংশ, আমদানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১৫ শতাংশ, পারমাণবিক শক্তি থেকে ১০ শতাংশ এবং তেল থেকে ৫ শতাংশ আসবে বলে ধরা হয় ওই ‘মাস্টার প্ল্যানে’।

বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার যতটুকু সম্ভব কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। কেননা, উত্পাদন খরচ কমলে খুচরা মূল্যও কমানো যাবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও বলেছেন সে কথা। বাতিল হওয়া ১০ প্রকল্প নিয়ে নানান কথা চলছে। অনেকে বলছেন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোন দরকার নেই। পরিবেশবাদীদের অর্জন, প্যারিস চুক্তির প্রতিফলনও বলছেন অনেকে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, ‘সময়মত আসতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পাওয়ার প্লান্টগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এই পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বাদ দেওয়ার ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি হবে না। ভবিষ্যতে কোন অঞ্চলে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগবে, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।’ তিনি আরো জানান, ‘আমাদের হাতে যে পরিমাণ পাওয়ার প্লান্ট আছে এবং আগামীতে যে পরিমাণ আমরা পাব, এতে দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে সিস্টেমে অতিরিক্ত থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়লা ও এলএনজি—দুটিই আমদানি নির্ভর। তাই সর্বোচ্চ সমন্বয়ের চেষ্টা হবে। অন্যদিকে, সিপিডি বলছে, কয়লার বিকল্প কোনভাবেই এলএনজি হতে পারে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘সতর্ক’ সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলছে, সরকার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় চারভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরকার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকেই পেতে চাইছে। আবার বাতিলকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে ব্যয়বহুল এলএনজি এবং জ্বালানি তেলনির্ভর কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। যা বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার অন্যতম কয়লা ও কার্বন দূষণকারী দেশে পরিণত করবে।

টিআইবির এই পর্যবেক্ষণ অনেকে মানছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। কারণ, জ্বালানি তেল ও এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খরচ বেশি পড়বে। পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার (আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল) পরিবেশের কোন ক্ষতি করবে না। আর ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা কয়লার মান এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রমানিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে যুগের পর যুগ। তাই সঙ্গতকারণেই বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোই একসময় নির্ভরতা তৈরি করবে। ভূমিকা রাখবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে, শিল্পায়ন। খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

একনজরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান চিত্র :

প্রকল্পের সংখ্যা ২৩; তিনটিতে উত্পাদন শুরু, সাতটি নির্মাণাধীন, কাজ শুরু হয়নি ১৩টির।
কয়লা বিদ্যুতের বাস্তবায়িত তিনটি প্রকল্প হলো—পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি কেন্দ্র। বড়পুকুরিয়ার দুটি কেন্দ্রের উত্পাদনক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ বিনিয়োগের নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো হলো—সিপিজিসিবিএলের কক্সবাজারে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, এসএস পাওয়ারের চট্টগ্রামে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট, বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির ৩০৭ মেগাওয়াট কেন্দ্র, বিআইএফপিসিএলের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র, বিসিপিসিএলের পায়রায় দ্বিতীয় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র এবং আরপিসিএল ও নরিনকো ইন্টারন্যাশনালের পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই প্রকল্পগুলোর কয়েকটির কাজ প্রায় ৫০ ভাগ এগিয়েছে।

বাতিল হওয়া ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প : 

২০০৮ সালের পর যে ১৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন পায়, বাতিল হওয়া ১০টি প্রকল্প সেগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পটুয়াখালীর (২X৬৬০) মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উত্তরবঙ্গ ১২০০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকার ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রামের ২৮২ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, খুলনার ৫৬৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহেশখালীর দুটি ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

For Advertisement

01672575878

দৈনিক নতুন দিগন্ত প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত:

error: Content is protected !!