মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি এম্বুলেন্স সেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনের একমাত্র সরকারি মাধ্যমটি অকারণে বন্ধ করে রাখায় জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এম্বুলেন্সটি অচল করে রাখা হয়েছে, অথচ এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরকারি হাসপাতালের জরুরি সেবার অন্যতম প্রধান অংশ হলো এম্বুলেন্স সার্ভিস। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সেবাটিই বন্ধ থাকায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাধ্য হয়ে জরুরি মুহূর্তে বাইরে থেকে বেসরকারি এম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে চড়া দামে, যা অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ক্ষুব্ধ কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন,“সরকারি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনো এম্বুলেন্স সেবা পাই না। জরুরি অবস্থায় আমাদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এম্বুলেন্স আনতে হয়। তখন আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না। এটা চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এম্বুলেন্স বন্ধ রাখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দাবি করেন, এম্বুলেন্স চলাচল করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আর্থিক লোকসান হয়—এই অজুহাতে নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলম এম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি হাসপাতালের জরুরি পরিবহন সেবা লোকসানের অজুহাতে বন্ধ রাখার কোনো নজির নেই। অথচ আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেই নজিরবিহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক নীতির চরম লঙ্ঘন।
তাদের মতে, জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে এম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকা মানেই রোগীদের জীবন নিয়ে নির্মম খেলায় মেতে ওঠা। কোনো রোগী চিকিৎসা না পেয়ে পথে প্রাণ হারালে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে যে কোনো সময় রোগী-স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এ ঘটনায় অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে অবিলম্বে এম্বুলেন্স সেবা চালু করে সাধারণ মানুষের জীবনরক্ষাকারী এই সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে।
বিষয়টি নিয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. আয়রুল আলম বলেন,আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে এম্বুলেন্স বন্ধ রাখিনি।আমি হাসপাতালে এম্বুলেন্স ড্রাইভারদের ষড়যন্ত্রের শিকার।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা সিভিলসার্জন ডা. আমিনুল হক-এর সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হলে উনি বিস্তারিত শোনার পর বলেন, আমি যতটুকু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আজ জেনেছি সরকারী (তেল) বরাদ্দ না থাকায় এম্বুলেন্স সেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।তবে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সহিত দেখে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।
Leave a Reply