1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :

আত্রাই বিয়াম স্কুলের শিক্ষক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলো অভিভাবকরা

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আত্রাই বিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ’-এর সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও অনৈতিক আচরণের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ (১ মার্চ) দুপুর ১২ ঘটিকায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সচেতন অভিভাবকবৃন্দ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. বুলবুল হোসেন’-এর বরাবর একটি দাপ্তরিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি (Penal Code) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা মোতাবেক কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে বলে মুঠোফোনে জানিয়েছেন একজন অভিভাবক।

অভিযোগের বিবরণে ভয়াবহ চিত্র লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষক জুয়েল রানা শ্রেণিকক্ষে এবং তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট সেন্টারে ছাত্রীদের পাঠদানের আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও যৌন নিপিড়ন চালিয়ে আসছেন।

অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
১. কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি: ক্লাসে পাঠদানকালীন কোমলমতি ছাত্রীদের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানো এবং অশ্লীল শারীরিক ইঙ্গিত প্রদান।
২. শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নারীত্বের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে তাদের শারীরিক গঠন বা ফিগার নিয়ে কুরুচিপূর্ণ প্রশংসা ও মন্তব্য করা।
৩. কুপ্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইল: নির্জনে ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক প্রস্তাব প্রদান এবং অবাধ্য হলে শিক্ষা জীবনে ক্ষতি করার প্রচ্ছন্ন হুমকি প্রদান।
আইনি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া অভিযোগকারী অভিভাবকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুয়েল রানার এই আচরণ ‘সরকারি কর্মচারী (শৃৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ এবং ‘শিক্ষক আচরণবিধি’-এর চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল একটি নৈতিক স্খলন নয়, বরং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ।

বিক্ষুব্ধ এক অভিভাবক বলেন, “একজন শিক্ষক যখন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেন, তখন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধুলোয় মিশে যায়। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই লম্পট শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্থির হবো না।”

লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. বুলবুল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিধি মোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন না করে, তবে তা ভবিষ্যতে অন্য অপরাধীদের উৎসাহিত করবে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্রাইয়ের শিক্ষা অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি এখন সাধারণ জনগণের।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :