1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :

আত্রাই রাজনৈতিক মতভেদে ইমামকে চাকুরীচ্যুত, প্রতিবাদের মুখে পুনর্বহাল—প্রশংসায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের নিকটস্থ জামগ্রাম রাজনৈতিক মতভেদের জেরে মসজিদের ইমামকে চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগে সৃষ্ট উত্তেজনার পর শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়েছে পরিস্থিতির। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে অবশেষে পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন ইমাম মো. ফিরোজ হোসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলে ইমাম মো. ফিরোজ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মান্নান ও শিপন এমপির নাম ভাঙিয়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এলাকাবাসীর একাংশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে একজন ইমামকে অপসারণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, “মসজিদ সকলের জন্য উন্মুক্ত একটি পবিত্র স্থান, এখানে দলীয় বিভাজন থাকা উচিত নয়।”

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে “দৈনিক নতুন দিগন্ত “পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নড়চড় শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুতই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং ইমাম মো. ফিরোজ হোসেনকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইমামকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিষয়টি নিয়ে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.তাসলিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তাদের অজান্তে ঘটেছে এবং তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন না।তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো।”আর যা এ ঘটনা ঘটিয়ে দলকে সমালোচনার মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অতিদ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তারা আরও জানান, দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

এদিকে, ইমামের পুনর্বহালকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা এবং জনমতের চাপের কারণেই দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার ইতিবাচক সমাপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে। নেটিজনরা আত্রাই থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সবমিলিয়ে, একটি বিতর্কিত ঘটনার পর অবশেষে সমাধান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :