মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে নিষিদ্ধ আ.লীগের নৈরাজ্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা যেন তাদের নিত্যদিনের কর্মসূচি। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে “ইনকিলাব মঞ্চ”-এর প্রধান ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এদিকে মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলাকেও অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮নং হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বান্দায়খাড়া ব্রিজ এলাকায় দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করে আত্রাই উপজেলা ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই মিছিলের পরই হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান এবং উপজেলায় বিজয় উৎসবেও অংশ নেন—তবু তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অথচ মিছিলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস দমন আইনে ১৭ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের হলেও বিস্ময়করভাবে সেখানেও আ.লীগের এই প্রভাবশালী নেতা ফারুকের নাম নেই। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আইন কি সবার জন্য সমান?
এদিকে ওসমান হাদী চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।এ ঘটনার আগেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দেন—আ.লীগের সন্ত্রাসীদের যেখানেই দেখবেন, সেখানেই গ্রেফতার করবেন;তাদের গ্রেফতারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মামলার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এত কিছুর পরও আ.লীগ নেতা ফারুক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে তিনি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এখন জনমনে একটাই প্রশ্ন—দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা অপকর্মের পরও কি সাংবাদিক নামধারী পরিচয়ের আড়ালে ফারুক পার পেয়ে যাবে? নাকি প্রশাসন অবশেষে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে?প্রশাসনের নিরবতা ভাঙার অপেক্ষায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
Leave a Reply