মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মোঃ জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে অশালীন প্রস্তাব প্রদান ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা আইনগতভাবে গভীর উদ্বেগজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত শিক্ষক তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে শ্রেণিকক্ষসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্জন স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক ও অশোভন আচরণ করেছেন। তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক ছাত্রীর কাছে অশালীন ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রদান করেন এবং তাদের মানসিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আচরণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্লীলতাহানি, যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনৈতিক আচরণের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহেও নারীর শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরযোগ্য এবং একইসাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে। এ ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত, চাকরি থেকে অপসারণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে এ ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়, বরং সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
পর্ব-০১
Leave a Reply