মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের কোলা গ্রামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ আরোপের মাধ্যমে একটি তথাকথিত সালিশ বৈঠক আয়োজন করে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাহাদৎ হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, মো. সাহাদৎ হোসেন (পিতা: মৃত বকুল উদ্দিন মন্ডল), গ্রাম-কোলা, থানা-আত্রাই, জেলা-নওগাঁ-এর পুত্র মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর পরকীয়ার অভিযোগ আরোপ করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ হলেন—মো. আবুল কালাম (মেম্বার) (পিতা: মৃত কবেজ ফৌজদার, সাং-মধ্য বোয়ালিয়া), মো. খলিল ফৌজদার (পিতা: মৃত মহির ফৌজদার), মো. আলতাব প্রাং (পিতা: মৃত আলীমুদ্দিন প্রাং) এবং মো. মিজান (পিতা: মো. রফিক), যাদের সকলের ঠিকানা কোলা গ্রাম।
অভিযোগে আরও বলা হয় যে, উক্ত মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ০২ আগস্ট ২০১৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯:০০ ঘটিকায় কোলা গ্রামে একটি অবৈধ ও আইনবহির্ভূত সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে অভিযুক্ত মো. জহুরুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও, একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বেআইনিভাবে ৫১,০০০/- (একান্ন হাজার) টাকা জরিমানা প্রদানে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী উক্ত অর্থ প্রদানে প্রাথমিকভাবে অসম্মতি জ্ঞাপন করলে, অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক নির্যাতনের হুমকি প্রদান করেন, যা দণ্ডবিধি অনুযায়ী অপরাধের শামিল। পরবর্তীতে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় তিনি বাধ্য হয়ে উক্ত অর্থ প্রদান করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, উক্ত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিশেষত দণ্ডবিধি অনুযায়ী চাঁদাবাজি, জবরদস্তি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং মানহানির শামিল, যা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ, দণ্ডনীয় এবং মানবাধিকার পরিপন্থী।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যাদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. সাহাদৎ হোসেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে, অভিযোগ প্রাপ্তির পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হলে তিনি,তার জায়গা থেকে সঠিক সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।তবে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে জোরপূর্বক টাকা হাতিয়ে নেওয়াকে তিনি আইনবহির্ভূত দাবি করেছেন
বিঃদ্রঃ ছবিতে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।
Leave a Reply