1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :

উপসম্পাদকীয়

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

সম্মানের ভাষা না জানলে ধর্মগুরুর আসনে বসার অধিকার আপনাদের নেই

সমাজে সম্মান কেবল দাবি করে আদায় করা যায় না—সম্মান অর্জন করতে হয় আচরণ, শালীনতা ও ভদ্রতার মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে কিছু আলেম-ওলামা নামধারী ব্যক্তি এমন আচরণ করছেন, যা শুধু অশোভনই নয়, বরং পুরো ধর্মীয় সমাজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

ধর্ম মানুষকে বিনয় শেখায়, অহংকার নয়। ধর্ম মানুষকে শিষ্টাচার শেখায়, বেয়াদবি নয়। কিন্তু আজকাল দেখা যাচ্ছে—কিছু তথাকথিত মোল্লা, পীর কিংবা কুতুব সেজে বসা ব্যক্তিরা নিজেদের এমন এক অহংকারের আসনে বসিয়ে ফেলেছেন, যেন সমাজের অন্য কেউ তাদের সমকক্ষ নয়। অথচ বাস্তবতা হলো—শালীনতা ও সামাজিক ভদ্রতার পরীক্ষায় তাদের অনেকেই করুণভাবে ব্যর্থ।

সভ্য সমাজে একটি চিরন্তন রীতি রয়েছে—কোনো সম্মানিত ব্যক্তি সামনে এলে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানানো। এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সভ্যতার পরিচয়। আর তিনি যদি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হন, তাহলে সেই সম্মান প্রদর্শন আরও স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। কারণ এই সম্মান ব্যক্তিকে নয়, রাষ্ট্রীয় পদকে দেওয়া হয়।

কিন্তু যখন দেখা যায় একজন ধর্মীয় নেতা সেজে বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা একজন সরকারপ্রধানের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছেন—তখন সেটি আর সৌজন্যের বিষয় থাকে না, সেটি পরিণত হয় নগ্ন ঔদ্ধত্যে। এমন আচরণ শুধু অশোভন নয়, এটি সামাজিক শিষ্টাচারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বয়স এখন ৬২ বছর। বয়স, পদমর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব—সব দিক থেকেই তিনি সম্মানের দাবিদার। অথচ এমন একজন ব্যক্তির সামনে বসে থেকে নিজের আধ্যাত্মিক উচ্চতা প্রদর্শনের যে হাস্যকর চেষ্টা করা হয়েছে, তা মূলত বিনয়ের শিক্ষা নয়, বরং আত্মম্ভরিতার বিকৃত প্রকাশ।

প্রশ্ন হচ্ছে—ধর্মের নাম ভাঙিয়ে যারা সমাজে নেতৃত্বের আসনে বসতে চান, তারা কি আগে নিজেরাই ভদ্রতা শিখেছেন? সমাজের সাধারণ মানুষও জানে, সম্মানিত ব্যক্তি সামনে এলে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো সৌজন্যের অংশ। সেখানে শায়েখ আব্দুল বিন রাজ্জাক ইউসুফ সহ কয়েকজন ধর্মগুরু দাবিদার ব্যক্তিদের দেখা যাচ্ছে বসে থাকে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে।ব্যক্তিত্ব যদি এই ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও রপ্ত করতে না পারেন, তাহলে তিনি মানুষের নৈতিক শিক্ষক হওয়ার দাবিই বা করেন কীভাবে?

বাস্তবতা হলো—ধর্মের পোশাক পরে থাকা সবাই ধর্মের প্রতিনিধি নয়। কেউ কেউ সেই পোশাককে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত অহংকার আর আত্মপ্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে। আর এই কারণেই সমাজে মাঝে মাঝে এমন দৃশ্য দেখা যায়, যা শুধু বিব্রতকরই নয়, লজ্জাজনকও।

সত্য কথা হলো—ধর্ম মানুষকে বড় করে, কিন্তু ধর্মের নামে অহংকার মানুষকে ছোট করে দেয়। যারা সম্মান দিতে জানে না, তারা কখনো প্রকৃত সম্মান পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না।

সমাজের কাছে ধর্মীয় নেতৃত্ব দাবি করার আগে তাদের অন্তত একটি জিনিস শিখতে হবে—ভদ্রতা। কারণ ভদ্রতা নেই যেখানে, সেখানে ধর্মীয় মহিমার দাবিও নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।

মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম
গণমাধ্যমকর্মী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :