মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি | আত্রাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় এখনো বীরদর্পে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও জিএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত নাজিমুদ্দিন চেয়ারম্যান। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে যখন আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, তখন আত্রাইয়ে এই নেতাদের অবাধ বিচরণে জনমনে চরম অসন্তোষ ও নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
দাপট কমেনি ‘জিএমবি’ নাজিমের অভিযোগ উঠেছে, ০২ নং ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ওরফে জিএমবি নাজিম এখনো বহাল তবিয়তে তার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়ে তিনি চলাফেরা করলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। শুধু নাজিমুদ্দিনই নন, এই তালিকায় রয়েছেন:
মো. ওমর ফারুক: সাংগঠনিক সম্পাদক, ০৮ নং হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
আব্দুল মজিদ: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ০১ নং শাহগোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।সহ আরও অসংখ্য ‘হেভিওয়েট’ নেতা এখনো এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। যেখানে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় চলছে, সেখানে আত্রাইয়ের এই চিত্র উল্টো।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব বিতর্কিত নেতারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান? সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে— তবে কি আড়ালে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন? একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও অদৃশ্য কোনো শক্তির ইশারায় তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।
ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চিহ্নিত নেতারা প্রকাশ্যে থাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সচেতন সমাজের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে এই বিতর্কিত নেতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
Leave a Reply