আত্রাই(নওগাঁ)প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ০২ নং ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আ.লীগের সহ-সভাপতি মো. নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এবার সেই অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম এর মিথ্যা বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শেফালি বেগম প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, প্রায় ২ লাখ টাকার একটি সরকারি প্রকল্পের কাজের বিপরীতে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি সম্পত্তি দখল ও বিক্রি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং জনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, টাকা নেওয়া হলেও তারা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা এখনো পাননি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ জুন আত্রাই থানায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০০ ও ৪১৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিমুদ্দিন মণ্ডল। মামলায় সাংবাদিক শিফাত মাহমুদ ফাহিমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের প্রশ্ন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই কেন এই মামলা দায়ের করা হলো? অনেকের মতে, অভিযোগের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে সমালোচকদের চাপে রাখতে এবং সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করতেই এ মামলা করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাদের ভাষ্য, সত্য উদঘাটনের স্বার্থে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অডিও রেকর্ডের সত্যতা এবং মামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply