1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :

আত্রাই বিয়াম স্কুলের শিক্ষক জুয়েলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়মের প্রশ্ন

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬


মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি
:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মোঃ জুয়েলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক তার ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তিনি পড়াশোনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখতেন এবং বিভিন্নভাবে অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করতেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী কোনো নারীর শ্লীলতাহানি বা শ্লীলতাহানির চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া ধারা ৫০৯ অনুযায়ী নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য বা ইঙ্গিত করাও দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে, তাহলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ধারা ১০ অনুযায়ী যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য অন্যান্য ধারাতেও মামলা দায়ের করা যেতে পারে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক জুয়েলের নিয়োগ নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনার্স পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পেয়েও সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান, যা বিয়াম ফাউন্ডেশনের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, শিক্ষা জীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ থাকলে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করার যোগ্যতা থাকে না।

তবুও তিনি কীভাবে ২০১৭ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিয়োগ পান।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :