মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানকে আকস্মিকভাবে বদলি করা হয়েছে। তাকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ভাটকৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
হঠাৎ এই বদলিকে কেন্দ্র করে সহকর্মী শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ—
“শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সক্রিয় থাকার জেরেই তাকে বদলি করা হয়েছে। দাবি-দাওয়ার আন্দোলন দমাতে এমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
—
❖ আন্দোলনের বিরোধিতায় সহকারী শিক্ষকদের একাংশ
অন্যদিকে বার্ষিক পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আন্দোলনকে অযৌক্তিক ও দায়িত্বহীন বলে দাবি করেছেন কিছু শিক্ষক। তাদের মতে, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদেরকে “জিম্মি করে” আন্দোলন গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন শিক্ষিকা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন—
“শিক্ষকদের মান-সম্মান যেটুকু ছিল তা শেষ করে দিয়েছে এই আচরণে। শিক্ষকতা পেশাদারিত্ব দেখানোর জায়গা নয়, এটা ভালোবাসার জায়গা। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা আর শিশুদের উপর চাপ সৃষ্টি করা এক বিষয় নয়। বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় মারধর ও অপমানিত হয়েছেন—এ দৃশ্য আমাকে লজ্জিত করেছে।”
তিনি আরও লেখেন—
“চাইলেই তারা জানুয়ারির শুরুতে আন্দোলন করতে পারতেন। তবে পরীক্ষার সময় শিশুদের এমন বিপদে ফেলা জঘন্য কাজ। সারাবছর পড়ানোর পর শেষ মুহূর্তে শিশুদের পাশে না দাঁড়িয়ে এমন আচরণ কিভাবে ন্যায্য হয়?”
—
❖ নেটিজনদের প্রতিক্রিয়া—“দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। নেটিজনদের অনেকেই মনে করছেন—
শিক্ষকরা নিজেরাই জেনে-শুনেই এই পেশায় যোগ দিয়েছেন, এখন আন্দোলন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অনৈতিক।
দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের আন্দোলনকে তারা “রাষ্ট্রবিরোধী উদ্দেশ্য” হিসেবে দেখছেন।
অনেকের দাবি, যারা আন্দোলনে জড়িত তাদের বড় অংশই অতীতে আওয়ামী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে অনুগত।
কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, “ওপারের নির্দেশে” বা বাহ্যিক প্রভাবেই দেশের ভিতর অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
নেটিজনদের একটি অংশ দাবি তুলেছে—
“যারা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এমন আন্দোলন করবে, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে—তাদের তালিকা করে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে নতুন বেকার শিক্ষিত তরুণদের নিয়োগ দেওয়া হোক।”
এ ছাড়াও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
Leave a Reply