আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাজিমুদ্দিন মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও সাংবাদিক মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা একটি মামলা ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ০২ নং ভোঁপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিমুদ্দিন মণ্ডল গত ৫ জুন আত্রাই থানায় সাংবাদিক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৫০০ ও ৪১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলাটি দায়েরের পর থেকেই এর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ২৬ এপ্রিল এবং সময় সকাল ১১টা। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অভিযুক্ত ফাহিম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং তার অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও রয়েছে।
এদিকে অভিযোগিত ঘটনার প্রায় ৪১ দিন পর মামলা দায়েরের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগটি যদি এতটাই গুরুতর হয়ে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?
সাংবাদিক শিফাত মাহমুদ ফাহিম দাবি করেন, চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগসংবলিত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জের ধরেই তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তার ভাষ্য, “জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলাটি মূলত প্রতিশোধমূলক।”
এদিকে মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার দুই সাক্ষীর সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এতে মামলার ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়টি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি নিয়মিত এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমেও উপস্থিত থাকছেন।
ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কের পরও তিনি কীভাবে এতটা প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন? তার এই সক্রিয় উপস্থিতির পেছনে কোনো বিশেষ প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
সচেতন মহলের অভিমত, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। মামলার অভিযোগ, ঘটনার সময়-স্থান, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা দায়েরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আত্রাইবাসীর অনেকের কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন- আইনের চোখে সবাই সমান হলে,কিভাবে একজন আ.লীগ নেতা এখনো দাম্ভিকতার সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে? কিভাবে থানাসহ মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিং উপস্থিত থেকে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখাচ্ছে?আ.লীগ নেতা নাজিমুদ্দিনকে গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply