মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ৬নং মনিয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাসান আলী মেম্বারের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনকে আবার মাঠে নামানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এক সময়ের হতদরিদ্র দিনমজুর হাসান আলী অন্যের বাড়িতে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তার জীবনে ঘটে যায় রহস্যজনক উলটপালট। রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন বিপুল সম্পদের মালিক। কোটি কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে জনমনে এখনো প্রশ্ন—এই সম্পদের উৎস কোথায়?
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক ও কৌশলী উপায়ে তিনি বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যান। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় একাধিক প্লট ও জমি কেনার পাশাপাশি সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, এসব অবৈধ সম্পদ ও ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়েই বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসেই তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। গোপন বৈঠক, আড়াল থেকে যোগাযোগ এবং অর্থায়নের মাধ্যমে পুরনো নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার এই তৎপরতায় আত্রাই উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এ ধরনের গোপন কার্যক্রম চলতে থাকলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটতে পারে। সহিংসতা ও অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সচেতন মহল।
এমতাবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। অভিযুক্ত হাসান আলী মেম্বারকে পুনরায় গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সব অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করার জোর দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি বর্তমানে আত্রাই উপজেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
Leave a Reply