1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :
আত্রাই মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের: ঘাতক চালক পলাতক আমার স্কুল ক্রীড়া চক্র ডে-নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন পলাশবাড়ী উদয়ন সংঘ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের নেতৃত্বে সাভারে মহাসড়ক ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান সাভারে সন্ত্রাসী হামলায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সাভারে ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ আশুলিয়ায় স্বামীর টাকা পয়সা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে উধাও গৃহবধূ খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে আশুলিয়ায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন

আশুলিয়ার পবনারটেকে ইয়াবা দুলালের দাপট; মাদকবিরোধী প্রতিবাদকারীদের নামে মিথ্যা মামলা, আতঙ্কে ঘরছাড়া পরিবার

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

হুমায়ুন কবির,সাভার:
সাভারের আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকা—যেখানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে মাদক সাম্রাজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুলাল মিয়া ওরফে ইয়াবা দুলাল নামের এক মাদক কারবারি তার বাড়িকে পরিণত করেছেন ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদকের নিরাপদ আড্ডাখানায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক কেনাবেচা। প্রতিবাদ করলে শুরু হয় ভয়ভীতি, হামলা ও মিথ্যা মামলা। ফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বহু পরিবার আজ ঘরছাড়া।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে পবনারটেক এলাকায় দুলালের বাড়ি ও আশেপাশকে মাদকের নিরাপদ আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাড়িতে মাদক বিক্রি চলমান; প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ভয়-ভীতি ও হুমকি—অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় এলাকার মানুষকে ভয়ভীতিতে রাখেন তিনি।

ভুক্তভোগী তালিকায় রয়েছেন মোঃ আমিনুল ইসলাম (পিয়ার আলী, ৫৫), মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৩৫), মোঃ মিলটন (৩২), মোঃ মিজান (৩৫), মোঃ জিম (৩৩), মোঃ নাসির (৩৫), মোঃ আলেকুজ্জামান (৫০), মোঃ মুরাদ (৪৮), মোঃ সজিব (৪০)সহ অনেকে। তাদের ভাষ্য—শুধু মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নানা রকম সাজানো ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে; পুলিশের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দুলাল দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিন্টু বলেন, “প্রতিদিন দুলালের বাড়িতেই মাদকের লেনদেন হয়। প্রতিবাদ করলে অস্ত্র দেখায়, জীবন থাকা কঠিন। আমি শুধু মাদকবিরোধী প্রতিবাদ করেছি—তারপর থেকেই আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। দুলালের নিজস্ব কেডার বাহিনী দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকিও পেতে হচ্ছে। আমাদের চাই মাদক মুক্তি, কিন্তু প্রতিবাদ করলেই দমন করা হচ্ছে।”

নজরুল ইসলাম নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, “আমরা কোনো অপরাধ করিনি। কেবল মাদক বন্ধে কথা বলায় দুলাল আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। রাস্তায় দেখলেই অস্ত্র বের করে হুমকি দেয়—মৃত্যুভয়ে দিন কাটছে।”

সজিব নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা মাদককে না বলি, কারণ মাদক একটি সমাজ ধ্বংসকারী শক্তি। মাদকের কারণে আমাদের যুব সমাজ বিপথে যাচ্ছে, পরিবার ভাঙছে, অপরাধ বাড়ছে। তাই আমরা চাই মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলা হোক।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে, প্রতিবাদ করে—তাদের অনেক সময় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। আমি নিজে শুধুমাত্র মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় দুলালের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই। মাদকবিরোধী আন্দোলনকে দমন করা হলে সমাজ আরও বিপদের দিকে যাবে।
আমাদের দাবি, প্রশাসন যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়

আশুলিয়া থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পবনারটেক এলাকার বাসিন্দা মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে পিয়ার আলী আক্ষেপ করে বলেন, দুলাল এবং তার স্ত্রী হচ্ছে গণ আপা-দুলাভাই। থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে আপা দুলাভাই নামে সম্বোধন করা হয়। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়ার কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর অমানুষিক আচরণ এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দম্ভের সাথে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তারা। দুলাল শুধু মাদক নয় নারীদের দিয়েও দেহ ব্যবসা করায় এই বাড়িটিতে। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। আমাদের এলাকার যুব সমাজটা আজ ধ্বংসের পথে। মাদকের করাল গ্রাসে ছেয়ে যাচ্ছে আমাদের পুরো এলাকা। তার বিরুদ্ধে যে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো তার নেশায় পরিণত হয়েছে। সে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময়কার বিভিন্ন এমপি মন্ত্রী এবং বড় বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে মূলত এ ধরনের অপকর্ম পরিচালিত করে আসছে। আমরা মাদকের এই থাবা থেকে বাঁচতে চাই। আমার এলাকায় মাদক বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাই।”

উল্লেখ্য খবর সংগ্রহের সময় দুজন মাদক ক্রেতাকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা গেছে; আর মাদকসম্রাট দুলালও মিডিয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

অপর দিকে, ডিবি ঢাকা জেলা উত্তরের ওসি মো. জালাল উদ্দিন,এই ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করব। ব্যক্তি পর্যায়েও যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। আমাদের ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা সেই নীতিতেই এগোচ্ছি। অপরাধী যেই হোক না কেন কোন ছাড় নয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক; নাহলে মাদক ব্যবসা চলতে থাকলে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। তারা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন—নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—যদি প্রশাসন দ্রুত কড়া পদক্ষেপ না নেয় তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে এ বিষয়টি তুলে ধরবে। স্থানীয়দের দাবী ছবি-ভিডিও প্রমাণ থাকলেও তারা নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে প্রকাশ্যে নামতে ভয় পাচ্ছেন—এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের স্বতঃস্ফূর্ত ও কার্যকর হস্তক্ষেপই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :