সাভার প্রতিনিধি :
সাভার মডেল থানাধীন আড়াপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আবু বক্কর সিদ্দিকী (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও পকেটে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৭ জুন (বুধবার) রাত সোয়া আটটার দিকে আড়াপাড়া এলাকার ‘সোহাগের গরিবের বন্ধু সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সামনে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ছেলে শাহরিয়ার বিন নাজিম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে সাভার থানা পুলিশ।
অভিযোগে সাভারের সবুজবাগ এলাকার ভাড়াটিয়া দুলাল (৪০), তাঁর ছেলে ওমর (২০), প্রধান আসামি দুলালের ভাগ্নে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাভার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমানের পিএস আল আমিন (২৭) ও রুজিনা আক্তারসহ (৩৫) অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত বুধবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে ১ নম্বর আসামি দুলাল ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিককে ব্যবসায়িক আলোচনার কথা বলে ফোন করে বাইরে ডাকেন। রাত সোয়া আটটার দিকে আবু বক্কর আড়াপাড়া এলাকার নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে তাঁর পথ রোধ করে। প্রথমে গালিগালাজ করার একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।
হামলায় ১ নম্বর আসামি দুলাল ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আবু বক্কর সিদ্দিকীর মাথায় আঘাত করলে তাঁর মাথার বাঁ পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। অন্য আসামিরা বঁটি দিয়ে কোপ মেরে তাঁর বাঁ কানের নিচে কেটে ফেলে এবং ইট দিয়ে মুখে আঘাত করে তাঁর চারটি দাঁত ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি বাম চোখে আঘাত করে চোখ চিরতরে অন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাকি আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীল ফুলা জখমও করে।
মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর গলায় থাকা আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং পকেটে থাকা ব্যবসায়িক কাজের নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে আবু বক্কর সিদ্দিকীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাভারের সুপার মেডিকেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আহত আবুবকর সিদ্দিকের শ্যালক নাহিদ হাসান ইউসুফ বলেন, আমার ভগ্নিপতি অভিযুক্ত দুলালের কাছে ব্যবসায়ীক সুত্রে ৮লাখ পাওনা ছিল। গত পরশু সেই টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয় এসময় দুলাল তার সহযোগীরা আমার ভগ্নীপতিকে হত্যার উদেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার ভগ্নীপতিকে মারাত্মকভাবে জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত আবুবকরের বড় ছেলে শাহরিয়ার নাজিম বলেন, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে আমার বাবার উপর এমন হামলার ঘটনায় আমিসহ আমার পুরো পরিবার আতঙ্কগ্রস্থ। বর্তমানে আমরা সবাই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছি আমার বাবাও হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমি হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আসামীদের গ্রেফতার চাই।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নূর মোহাম্মদ বলেন,ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে।
Leave a Reply