অস্ত্র হাতে যুবকের ভিডিও ভাইরাল—দল অস্বীকার, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক**
মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর লাঠিসোটা নিয়ে তাণ্ডব চালাতে গিয়ে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য পরিণত হয়েছিল আধুনিক যুগের যুদ্ধক্ষেত্রে।
সংঘর্ষের ধাক্কায় ভয়ার্ত জনতা যখন জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে আরেক আতঙ্ক—এক যুবকের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি চালানোর ভিডিও। যে দেশের রাজনীতিতে দিনের আলোয় অস্ত্রের ঝনঝনানি দুঃসহ স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, সেই দৃশ্য আবারও মানুষের সামনে ফিরে আসে ফেসবুক ভিডিওর পর্দায়।
ভিডিওতে দেখা যুবকের পরিচয়ও মিলেছে—তিনি তুষার মণ্ডল, ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী।
বিএনপি–জামায়াতের পরস্পরকে দোষারোপ
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ অভিযোগ করে বলেন—
“প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে তুষার মণ্ডল গুলি চালিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অস্ত্র হাতে ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তুষার মূলত তালেব মণ্ডলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম বাহু।”
সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার আরও সরাসরি অভিযোগ তোলেন—
“জামায়াতের কোনো গণসংযোগ ছিলই না। হঠাৎ অস্ত্রভর্তি গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তালেব মণ্ডল নিজ হাতে গাড়ি থেকে অস্ত্র নামিয়ে সমর্থকদের দিয়েছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন—
“পরিকল্পিতভাবে জামায়াতকর্মীরা গ্রামে ঢুকে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পরে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় গাড়িবহর ফেলে পালানোর সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সেই দায় আবার বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।”
জামায়াতের পাল্টা বক্তব্য—‘অস্ত্রধারী যুবক আমাদের নয়’
অপরদিকে জামায়াতের জেলা আমির আবু তালেব মণ্ডল সংবাদ সম্মেলন ডেকে দাবি করেন—
“সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্ত্র হাতে যে যুবকের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তিনি জামায়াতের কেউ নন।”
শীর্ষ নেতার এমন বক্তব্যকে স্থানীয়রা অনেকেই ‘কৌশলী অস্বীকার’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ বলছে—দুই পক্ষই দায় এড়াতে ব্যস্ত
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন—
“বিএনপি ও জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভিডিও-ছবি সব সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে যারাই দোষী হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ভাইরাল ভিডিও—সব মিলিয়ে ঈশ্বরদীর মানুষের মাঝে এখন শুধুই আতঙ্ক আর প্রশ্ন—
রাজনীতি কি এখন বন্দুকের নলেই পথ খুঁজছে?
Leave a Reply