মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:
সাভারের আকাশ-বাতাস এখন লাশের গন্ধে ভারী, আর জনমনে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এক নরপিশাচের উন্মত্ততায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পৌর এলাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; ভবঘুরের ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা সেই দুর্ধর্ষ ঘাতক মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাভার মডেল থানা পুলিশের এক ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়ে এই সিরিয়াল কিলার।
সিসিটিভি ফুটেজে উন্মোচিত পৈশাচিকতা
যে খুনি নিজেকে নিস্পৃহ ভবঘুরে হিসেবে জাহির করে বেড়াত, তার আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স। সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ যখন তদন্তে নামে, তখনই বেরিয়ে আসে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অতি সাধারণ বেশে ঘুরে বেড়ানো এই সম্রাটই আসলে এক দক্ষ ও নিষ্ঠুর শিকারি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা কঠোর ভাষায় জানান “লাশ উদ্ধারের পর আমরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করিনি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই পিশাচকে শনাক্ত করা হয় এবং মাত্র দুই ঘণ্টার অভিযানে তাকে টেনে হিঁচড়ে আটক করা হয়েছে।”
স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো ৫ খুনের রক্তমাখা ইতিহাস।
আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। সম্রাট কেবল রবিবারের জোড়া খুনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইতিপূর্বে আরও তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে। সব মিলিয়ে মোট পাঁচটি নৃশংস খুনের দায় স্বীকার করেছে এই ‘সাইকো সম্রাট’।
যে রাস্তায় সে শুয়ে থাকত, যে কমিউনিটি সেন্টারের পাশে সে ঘুরে বেড়াত, সেখানেই সে চালিয়েছে তার খুনের উৎসব। এলাকাবাসীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সে দিনের পর দিন এই নারকীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারিএই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন,”ঘটনাটি চরম নৃশংস ও স্পর্শকাতর। আমরা খুনিকে শনাক্ত করেছি এবং সে অপরাধ স্বীকার করেছে।আমরা কোনো ছাড় দেব না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ছদ্মবেশের আড়ালে অপরাধী যতই চতুর হোক না কেন, আইনের হাত থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। সাভারের মানুষ এখন এই ‘সাইকো সম্রাট’-এর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
Leave a Reply