নিজস্ব প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার দমদত্তবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা জলিলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একসময় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বেশ কিছু বিস্ময়কর তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকা জলিলের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে অতীত অবস্থার বিস্তর ফারাক রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কীভাবে তিনি এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন?
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জলিলের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকা শহরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি, প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, গ্রামের বাড়িতে আনুমানিক ৪৫ বিঘা জমি যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা এবং কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি অভিজাত বাড়ি। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি পোশাক তৈরির কারখানার মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো অভিযোগ করছে, বিগত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং বিভিন্ন প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে জলিলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন সাধারণ দিনমজুরের পক্ষে এত অল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব? সম্পদের উৎস, আয়কর নথি এবং ব্যবসায়িক বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। কারণ, এ ধরনের বিতর্কিত সম্পদের উৎস অজানা থাকলে তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়।
Leave a Reply