নিজস্ব প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ-সাহাগোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর্থিক হয়রানির অভিযোগ থাকলেও এবার সামনে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য। সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার পরিবর্তে বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহসানগঞ্জ-সাহাগোলা ইউপি ভূমি অফিসে সহকারী টিডিআর হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা সরকারি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। তবে বাস্তবে তার দায়িত্ব পালন করছেন বহিরাগত ব্যক্তি মো. মুন্না হোসেন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু অফিসের নথিপত্র বা সাধারণ কাজই নয়, ভূমি অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও দেখভাল করেন ওই বহিরাগত ব্যক্তি। এমনকি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নির্ধারিত আসনে বসেই সাধারণ মানুষকে সেবা দিচ্ছেন মুন্না হোসেন। একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তার আসনে বসে দায়িত্ব পালন করেন—এমন দৃশ্য উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের মাঝেও চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“মুন্না আমার চাচাতো ভাই। কাজের সুবিধার জন্য তাকে দিয়ে কিছু কাজ করাই। এতে দোষের কিছু দেখি না।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্ব কি এখন আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে? একজন সরকারি কর্মচারী কীভাবে নিজের দায়িত্ব বহিরাগত ব্যক্তির কাছে অর্পণ করেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করিয়ে আসছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে অফিসে জবাবদিহিতা না থাকায় সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“সরকারি অফিসে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। কেউ যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দালালচক্র ও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হতে থাকবে।
Leave a Reply