আবু সুলতান আহমেদ জেলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আন্তঃকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা ঘিরে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় আহত ফুটবল দলের অধিনায়ক তানভীরের পাশে দাঁড়িয়েছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম। তিনি আহত খেলোয়াড়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত আন্তঃকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি ডিগ্রি কলেজ ফুটবল দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সায়েম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে। তবে খেলায় বিজয়ের পর ফেরার পথে প্রতিপক্ষের কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে আত্রাই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, পরাজয়ের ক্ষোভে সায়েম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নওগাঁ থেকে ফেরার পথে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন আদমদীঘি থানার আওতাধীন কেল্লাপাড়া এলাকায় আত্রাই দলের খেলোয়াড়দের পথরোধ করে। এ সময় তারা তানভীরসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও অত্যন্ত নির্মম, যা হত্যাচেষ্টার শামিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দলের অধিনায়ক তানভীরসহ কয়েকজন খেলোয়াড় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় আত্রাই উপজেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়ামোদীরা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের ধীরগতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আহত তানভীরের পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম বলেন,
“আহত খেলোয়াড়দের চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তাও দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“খেলাধুলা সুস্থ প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেখানে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও’র এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তাদের মতে, খেলাধুলার মতো ইতিবাচক ও সুস্থ পরিবেশে সহিংসতার ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করতে হলে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনাটি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
Leave a Reply