উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে মসজিদের অর্থের হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় এক গণমাধ্যমকর্মীসহ ২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল হক গোমস্তা জাতীয় দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বায়তুল জামে মসজিদের কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ও স্থানীয় মুসল্লিরা বিবাদীদের কাছে হিসাব চাইলে তাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মসজিদের সামনে ‘মায়ের দোওয়া’ হোটেলের সামনে রাস্তার ওপর আসাদুল হক গোমস্তা হিসাব চাইলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। প্রতিবাদ করলে তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আসাদুল হক গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আব্দুল্লাহ আল আজিম নামের আরেকজনকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলার সময় এক অভিযুক্ত আসাদুল হকের চোখের নিচে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালায়। ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ধারালো অস্ত্র ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ঘটনায় ঢাকার সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আহতদের ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যা ও এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দিয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এমন সন্ত্রাসী হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply