সুলতান আহমেদ, আত্রাই (নওগাঁ):নওগাঁর আত্রাই উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আহসান উল্লাহ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ধসে পড়ায় আসন্ন ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম প্রতীক এই শহীদ মিনারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও ক্ষোভ।
১৯৪১ সালে জমিদার আহসান উল্লাহ মোল্লার নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আত্রাই উপজেলার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। উপজেলার ৩৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে এটিই একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেশি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের মাঠের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহীদ মিনারটি। কিন্তু গত বছরের বন্যা ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে মিনারের মূল স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সম্প্রতি হঠাৎ করেই এর একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে পুরো স্থাপনার সৌন্দর্য ও কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, সম্ভাব্য নির্মাণ ত্রুটি এবং অতিবৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাবেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো সংস্কার বা নজরদারি করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“প্রতি বছর আমরা ভোরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু এবার মিনার ধসে পড়ায় আমরা কীভাবে অনুষ্ঠান করব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে জরুরি ভিত্তিতে শহীদ মিনারটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে, দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply