নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁ জেলায় আবারও আলোচনায় এসেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ আব্দুস শুকুর এবং তার ভাগিনা ইউপি ভূমি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে খারিজ (নামজারি) করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক চা-স্টল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯/১০ মাস আগে আত্রাই উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে মাসুদ রানা তার ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে শ্রীঃ তাপস নামের ওই চা বিক্রেতার কাছ থেকে তিন দফায় মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন। খারিজ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে নেওয়া এই টাকা পরবর্তীতে আর ফেরত দেওয়া হয়নি, বরং শুরু হয় একের পর এক টালবাহানা। ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনার কল রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার না করে উল্টো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি দাবি করেন, এই লেনদেনের সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ শুকুরও জড়িত এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্নীতির বিষয় নয়—এটি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার এক জঘন্য উদাহরণ। একজন রাজনৈতিক নেতা, যিনি জনগণের আস্থা ও দায়িত্ব বহন করেন, তার নাম জড়িয়ে এ ধরনের কেলেঙ্কারি জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করেছে।
সচেতন মহল বলছে, যদি এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়—বরং প্রশাসন ও রাজনীতির যোগসাজশে গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
জনগণের প্রশ্ন একটাই—ক্ষমতার দাপটে আর কতদিন সাধারণ মানুষ প্রতারিত হবে? এখনই সময়, এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার।বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা শেখ শুকুর আলীর ভাগিনার সাথে কথা কেন কথা বলা হলো? এমন নানা প্রশ্ন তুলে তিনি ইংরেজি দৈনিক দ্যা মুসলিম টাইমসের রিপোর্টার “মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম” কে মুঠোফোনে কল দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।কল রেকর্ড টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
এ বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন,দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কোনো অন্যায় অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি আরও বলেন,একজন সাংবাদিক পেশাগত কারনে যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন সেখানে তো কোনো দলীয় নেতার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
Leave a Reply