সাভার প্রতিনিধি,
ঢাকার সাভার পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের জামসিং জয়পাড়া এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে ‘ঘুষের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন ও আত্মসাতেরথ অভিযোগের সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সেই মসজিদ কমিটি।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামসিং জয়পাড়া বাড়িওয়ালা মহল্লাবাসী এবং বায়তুল মামুর কেরামতিয়া জামে মসজিদ কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে তারা অর্থ আত্মসাতের সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান সংগৃহীত ফান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ ড্রেন নির্মাণ কাজে বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ও কমিটির ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনে বায়তুল মামুর কেরামতিয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ মনজুর রহমানের এর পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন প্রিন্স। বক্তব্যে বলেন, গত বছর যখন জামসিং জয়পাড়া এলাকার রাস্তাটি সংস্কারের অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো, যার কারণে বাড়িওয়ালারা ঘরভাড়া দিতে পারছিলেন না এবং সাধারণ মানুষ অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন।
এই মানবিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মহল্লাবাসী তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকারের শরণাপন্ন হন। তৎকালীন ইউএনও জানান যে, সরকারি বাজেটে তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেন নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে এলাকাবাসী চাইলে নিজেদের অর্থায়নে প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নিতে পারেন এবং এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়:
তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ড্রেন নির্মাণের সরাসরি সুবিধাভোগী বাড়িওয়ালারা নিজেদের দুর্ভোগ লাঘবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি ফান্ড গঠন করেন। গণমাধ্যমে ৩০-৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কমিটির নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ তো দূরের কথা, বরং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সঠিক তদবির এবং নিয়মতান্ত্রিক আবেদনের প্রেক্ষিতে ড্রেনটি সরকারি একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ড্রেনটির নির্মাণকাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।
সংগৃহীত ফান্ডের টাকা ব্যয়ের ব্যাপারে কমিটি জানায়, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে এত বড় ড্রেন একা নির্মাণ করা অসম্ভব ছিল। তাই সরকারি দপ্তরে প্রকল্পের টেকনিক্যাল প্রক্রিয়াকরণের প্রাথমিক খরচের জন্য ফান্ডের টাকা বিভিন্ন খাতে নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সামাজিক সাফল্যকে নসাৎ করতে এবং কমিটিকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। যেখানে এলাকাবাসীর উপকারের জন্য তোলা টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সরকারি প্রকল্প পাস করানো হয়েছে, সেখানে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ অবান্তর। এবিষয়ে সাংবাদিক ও তদন্তকারী যে কেউ চাইলে স্পটে গিয়ে চলমান কাজ স্বচক্ষে দেখে যাচাই-বাছাই করতে পারবেন।
এসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটি তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকল গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জামসিং জয়পাড়া বাড়িওয়ালা মহল্লাবাসী এবং বায়তুল মামুর কেরামতিয়া জামে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply