হুমায়ুন কবির:
বছরের পর বছর ধরে বর্ষা এলেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে যেত সড়ক। ঘরে ঢুকে পড়ত বৃষ্টির পানি, বন্ধ হয়ে যেত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দীর্ঘদিনের সেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, সাভার পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। নিজস্ব অর্থায়নে সাভার পৌরসভার উত্তর রাজাশন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উত্তর রাজাশন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রেনেজ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন নজরুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে উত্তর রাজাশন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যায়, ঘরে পানি প্রবেশ করে এবং শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর ও অপরিকল্পিত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে পুরো এলাকাই প্রায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে।

ভুক্তভোগী অমর বিশ্বাস বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। বৃষ্টি হলেই চারপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কেউ আমাদের কষ্টের কথা শুনেনি। অবশেষে নিজ উদ্যোগে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশার আলো দেখছি।
আরেক বাসিন্দা মোস্তফা বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা পানিবন্দি জীবন কাটাচ্ছি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা বন্যার মতো হয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে থাকতে হয়। এখন দ্রুত কাজ শেষ হলে হয়তো এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব।
ভুক্তভোগী সুদিপ্তা সরকার বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের আতঙ্ক শুরু হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়, ঘরে পানি উঠে আসে। শিশুদের স্কুলে যেতে, বয়স্কদের চলাচল করতে এবং দৈনন্দিন কাজ করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। নজরুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ শুরু করায় আমরা খুবই আশাবাদী। দ্রুত কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গাজী নাসিমুজ্জামান বলেন, ১৯৯১ সালের মার্চ থেকে আমি এই এলাকায় বসবাস শুরু করি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া দেখিনি। এলাকার যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা আমরা স্থানীয়রা নিজেদের অর্থেই করেছি। তাহলে প্রশ্ন হলো, আমরা নিয়মিত পৌর কর কেন দিই? নাগরিক সুবিধা যদি না পাই, তবে কর দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?
ভুক্তভোগী মনুচন্দ্র দাশ বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। বহু বছর ধরে এই সমস্যার সমাধান হয়নি। আজ কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। দ্রুত কাজ শেষ করে স্থায়ী সমাধান করা হোক।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, উত্তর রাজাশনের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমি নিজ অর্থায়নে এই ড্রেনেজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। জলাবদ্ধতা কোনো একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি পুরো সাভার পৌরসভার বড় সংকট। পর্যায়ক্রমে ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, সাভার পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সাভার পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডেই সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্যাকবলিত এলাকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমি সবসময় সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।
আগামী পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন,জনগণ যদি আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক সড়ক, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করে সাভার পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভায় রূপান্তর করবো।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ সফল হলে উত্তর রাজাশনের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরবে।
Leave a Reply