মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এক তরুণীকে ফুসলিয়ে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. ইতি মনি (১৮), পিতা- মো. শামসুল ইসলাম মণ্ডল, একই গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একই গ্রামের মো. জাহিদ মোল্লা (১৮), পিতা- মো. জামাল মোল্লা, কৌশলে ইতি মনিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর তরুণী গুরুতর অসুস্থ ও আহত হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
আত্রাই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঘটনার পর গোয়ালবাড়ি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্যে তারা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। গ্রামের পরিবেশ নষ্ট করে এমন অপরাধীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”
Leave a Reply