নিজস্ব প্রতিবেদক:নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়নভিত্তিক জরুরি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিগত সময়ে আত্রাই উপজেলায় রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণের কাছ থেকে এভাবে সরাসরি মতামত আহ্বানের উদ্যোগ কোনো উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করেনি।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আপনার এলাকায় কোনো রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি হলে আপনার মূল্যবান মতামত দিন, আমরা উন্নয়নে অংশীদার হতে চাই।”
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভিত্তিক রাস্তার নাম, জনস্বার্থে রাস্তার প্রয়োজনীয়তা, ইটের সলিং নাকি এইচবিবি (HBB) হবে, রাস্তার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, নতুন রাস্তা অগ্রাধিকার পেলেও অতিজরুরি ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাস্তা মেরামতের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত প্রয়োজনের রাস্তা নির্বাচন করা হলে উন্নয়ন আরও কার্যকর হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আত্রাইয়ে এর আগে কোনো উপজেলা প্রশাসন রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে জনগণের কাছ থেকে এভাবে উন্মুক্তভাবে মতামত আহ্বান করেনি। ফলে ইউএনওর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা আশা করছেন, প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ বাস্তবায়িত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন,“উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা। তাই কোন এলাকায় কোন রাস্তা সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেটি জনগণই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। জনস্বার্থই আমাদের প্রধান বিবেচ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি বরাদ্দ সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়নের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।”
Leave a Reply