নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুর মাদ্রাসা মসজিদ আজ অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এরই মধ্যে মসজিদে যাতায়াতের প্রধান রাস্তায় গাছ লাগিয়ে ও বেড়া দিয়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন মুসল্লি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দানশীল ব্যক্তি মরহুম আহাদ আলী সোনারের উদ্যোগে প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত হয় মির্জাপুর মাদ্রাসা মসজিদ। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুসল্লিদের অভিযোগ, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই ইবাদত করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, মসজিদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাছ লাগিয়ে ও বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। তাদের দাবি, এতে শুধু মসজিদে যাতায়াতই নয়, মির্জাপুর কাসেমুল নূরানী কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির নয়, পুরো গ্রামের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। অথচ বছরের পর বছর ধরে অবহেলায় মসজিদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মসজিদের সংস্কার ও যাতায়াতের পথের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনাটি সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু এবং মসজিদের যাতায়াতের পথে সৃষ্ট সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় অপূরণীয় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
Leave a Reply