মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মোসাসানিয়া এলাকায় একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১৩ জন প্রবাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা এবং সৌদি আরব সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রবাসীরা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও খড়সতী গ্রামের নিহত দুইজনের নাম-পরিচয় এখনো সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মো. জালাল, পিতা মৃত তমেজ উদ্দিন; বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মো. সুমন হোসেন, পিতা বাদল এবং মো. হাসিবুল হাসান শুভ, পিতা চঞ্চল; কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক, উভয়ের পিতা গুফফার প্রামাণিক, মো. রুবেল হোসেন, পিতা জান্নার এবং মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক, পিতা ফজলু; বিশা ইউনিয়নের সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন; শাহগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ, পিতা ময়েন শেখ; এবং বিশা ইউনিয়নের মাদবপুর গ্রামের মো. মজিদুল ইসলাম, পিতা মজনু মিয়া।
এছাড়া আত্রাই উপজেলার খড়সতী গ্রামের আরও দুইজন এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, যে সোফা কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেটির মালিকও আত্রাই উপজেলার খড়সতী গ্রামের মো. সাইদুল ইসলাম। ভয়াবহ আগুনে কারখানাটিতে কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
এদিকে স্বজনদের কান্নায় আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ভিড় বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য:
“ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।”
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, জীবিকার তাগিদে স্বজনরা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এ ঘটনায় আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ জানতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন।
বিঃদ্রঃ নিহতের তথ্য হালনাগাদ চলছে।
Leave a Reply