নিজস্ব প্রতিবেদক:নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা-আহসানগঞ্জ ভূমি অফিসের সহকারী টিডিআর (তহশিলদার) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নওগাঁ, রাণীনগর ও দুপচাঁচিয়া এলাকায় একাধিক বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাণীনগর থানার উত্তর পাশে প্রায় চার কাঠা জমির ওপর দুইতলা বাড়ি এবং নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকায় একটি দুইতলা বাড়ি থাকার কথা বলা হয়েছে। কেডির মোড়ের বাড়িটি ‘ল’ কলেজের পেছনে এবং এর আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া দুপচাঁচিয়ায় শ্বশুরবাড়ির এলাকায়ও একটি বাড়ি থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে ৪০ বিঘার বেশি জমি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং তার বৈধ আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রীর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি কলেজে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে এখনো আসেনি। অভিযোগটি সত্য কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কলেজ, চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। কালিগ্রাম ডাকাহারপাড়ার সাবিনা নামের এক নারীর পরিবারের সঙ্গে তার কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে মালশন-চিতলাপাড়া (পণ্ডিতপাড়া) এলাকার এক ছাত্রী ও তার মায়ের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে সত্য ঘটনা হিসেবে দাবি করা যাচ্ছে না।
অভিযোগকারীরা বলছেন, একজন সরকারি ভূমি অফিসের সহকারী তহশিলদারের বিরুদ্ধে যখন বিপুল সম্পদ, ঘুষ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমির দলিল, স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ এবং চাকরির নিয়োগসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মো. আতিকুর রহমান বলেন,কেউ যদি দুর্নীতি করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।আমি কারো দায়ভার বহন করবো না।কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা বিচার হবে।
বিঃদ্রঃ পর্ব-০১
Leave a Reply