আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ ও অসহায় কহিনূরের পাশে দাঁড়িয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কহিনূরের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
কহিনূর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মোজাহারের স্ত্রী। স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কহিনূর মানসিকভাবে অসুস্থ। তার ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলেটি প্রতিবন্ধী। অপরদিকে ৭ বছর বয়সী ছোট ছেলেটিও দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপুষ্টিতে ভুগে নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
অর্থকষ্টের কারণে পরিবারটির চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করায় কহিনূরের কান, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবারটিতে দুইজন প্রতিবন্ধী থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তার কার্ড পাননি। কহিনূরকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন তার ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সহায়তা মেলেনি বলেও জানান তিনি।
এ অবস্থায় কহিনূরের অসহায়ত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদারের। পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কহিনূরের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করেন।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “কহিনূরের অসহায়ত্বের বিষয়টি সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। মানুষের বিপদে মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমার এই সামান্য সহযোগিতায় যদি তার চিকিৎসায় কিছুটা উপকার হয়, সেটিই আমার জন্য আনন্দের। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এমন অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
কহিনূরের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সন্তানদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদারের এই সহযোগিতা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কহিনূরের পরিবারের মতো অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের পাশে শুধু ব্যক্তিগত সহায়তাই নয়, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সরকারি ভাতা, চিকিৎসা এবং নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা হলে পরিবারটির দুর্ভোগ অনেকটাই কমতে পারে।
Leave a Reply