পরিবারে মাতম—কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী, বৃদ্ধা মা ও প্রতিবন্ধী সন্তান
মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় আবারও ঘটল হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ড। চাচাতো ভাইদের ডাকে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন আব্দুর রহিম শেখ (৪০)। জমির কিছু কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাতে ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারলেন না তিনি—মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন রহিম।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার মরদেহ। শোকে মুহ্যমান পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। নিহত রহিম শেখ উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের দিঘীরপার পশ্চিমপাড়ার মৃত হাজের শেখের ছেলে।
“ওরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। জোর করে ডেকে তুলে নিয়ে গেল। একটু পরেই ওর আর্তচিৎকার শুনলাম…”—কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন রহিমের স্ত্রী মর্জিনা বিবি।
তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে চাচাতো ভাই আব্দুল খালেকের কাছে তিন শতক বাড়ির জমি বিক্রি করেছিলেন রহিম। সেই জমির নামজারি করতে গিয়ে খালেক গত শনিবার কিছু কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চান। কিন্তু ফটোকপি খুঁজে না পেয়ে দিতে পারেননি রহিম। আর সেই অপারাধেই সোমবার রাত ১০টার দিকে চাচাতো ভাই খালেক, ভাতিজা আরিফ, বারিকসহ ১৩-১৪ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘর থেকে ডেকে তুলে নির্মমভাবে মারধর করে।
এ সময় বৃদ্ধ মা রবিজান বেওয়া এবং ভাতিজা রকিবুল এগিয়ে গেলে তাদেরও রেহাই দেয়নি হামলাকারীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় রহিমকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যু তাকে ছাড়েনি।
পরিবারের কান্না থামছে না। ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী মর্জিনা বিবি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। বৃদ্ধা মা রবিজান বেওয়া ছেলের লাশের সামনে বসে শুধু বলছেন—
“আমার ছেলেটার কী দোষ ছিল আল্লা?”
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মরিয়ম বিবি বাদী হয়ে আরিফ ও বারিকসহ নামীয় ৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন,
“ঘটনার পরপরই হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
একটি পরিবারে অকাল মৃত্যু, আরেকটি রাতের অন্ধকারে নির্মমতার তাণ্ডব—জমির কাগজপত্রের ক্ষুদ্র বিরোধে এমন দফায় দফায় জীবন নিভে যাওয়া—এ যেন আত্রাইবাসীর জন্য আরেকটি দুঃসহ স্মৃতি হয়ে রইল।
Leave a Reply