পারভেজ মোহাম্মদ:
একদিন পরেই দেশের বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচন স্বাধীনতার পর ইতিহাসের নতুন মাইল ফলক। বিশেষ করে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের দাবি থেকে গণভোটের বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে।
নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন চেয়ে জোর প্রচারণা চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ বিদ্যামান রাজনৈতিক দলগুলো। বড় দুই বলয়ের ভোটযুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়েছে ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অন্যান্য ছোটদলগুলো। সেই হিসেবে এবারের নির্বাচনকে মোটা দাগে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই বলা চলে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনে কারা জয়ী হতে পারে? এর নিরপেক্ষ উত্তর হতে পারে- বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায় বিএনপিও সবচেয়ে বড় দল হিসেবে শুরু থেকেই ভোটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়। দেশে ফেরার আগে থেকেই দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতিতে বিষয়ে স্পষ্ট হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থেকে জনগণের সমর্থন আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে আসছেন তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই। সবশেষ নির্বাচনি প্রচারণায় দেশ চষে বেড়িয়েছে একই বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে সেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। তবে, ভোটের বাস্তবতায় জনগণের শেষ সমর্থন অর্থাৎ ব্যালটই বলে দেবে কোন দলের হাতে ন্যস্ত হবে রাষ্ট্রের শাসন ভার। শহীদ রাষ্ট্রপতির হাতে গড়া এবং খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নাকি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী?
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমি এই স্বল্প সময় যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি। আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ এবং ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারো আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন। অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার পতনের পর মাঠশূন্য করে দেশত্যাগ করে দলটির প্রধান থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশিরভাগ দাপুটে নেতা। এই শূন্যমাঠ যেভাবে দখল করে বিএনপির কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকর্মী- তাতে বড়ই বেদনাহত জনণগ। সেই দখল বাণিজ্যের ঘটনাগুলোকে বড় করে তুলে ধরে প্রতিপক্ষ জামায়াত। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ক্ষেত্রবিশেষ বিষয়টিকে বিকৃতভাবেও উপস্থাপন করে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। প্রসঙ্গক্রমে বিএনপিকে তুলে ধার হয় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে। এর সঙ্গে যুক্ত করে গণভোটের পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থান। যদিও শেষপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের বেশকিছু শীর্ষ নেতা গণভোটে হ্যা-এর পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেন। এতে করে খানিকটা হোচট খায় প্রতিপক্ষ।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেয়া জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তারেক রহমান উল্লেখ করেন বিএনপির শেড়কের কথা। যার সঙ্গে মিশে আসে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের সমর্থনে বিএনপি অতীতে বহুবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে থাকার কারণেই তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যাকে বাংলাদেশের জনগণ অর্থাৎ আপনারাই দেশনেত্রী উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি কখনোই আপনাদের সম্মানের অমর্যাদা করেননি। জীবনের শেষ বয়সে এসেও তিনি জেল জুলুম বরণ করেছেন কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে আপোষ করেননি।’তিনি গণতন্ত্রের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। দেশ ছাড়ার নানা প্রস্তাবে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একাই পর্বত শৃঙ্গের মত মাথা উঁচু করে দেশের জন্য লড়ে গেছেন তিনি। হারিয়েছেন নিজের সন্তান। প্রিয় আরেক সন্তানকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মাটি কামড়ে শেষ পর্যন্ত আঁকড়ে ছিলেন জনগণের স্বার্থে।
ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে পুনরায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিক জনগণের সামনে খালেদা জিয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সেই সময়ম এখন উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রতিষ্ঠার এই যুদ্ধে খালেদা জিয়াই হতে পারেন বিএনপি বিজয়ের ট্রাম কার্ড।#
Leave a Reply