1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :
সাভারে এনসিপি নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ—মেলার নাম করে লাখো টাকা হাতিয়ে, উল্টো হুমকি! ভালোবাসা দিবসে ‘এক কেজি ভালোবাসা’ বিতর্ক—কাশিমপুর থানার ওসি ক্লোজড, এলাকায় তোলপাড় আত্রাই ৩৩ কেভি লাইনের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আত্রাই অ্যাম্পুল ইনজেকশনসহ দুই মাদকসেবী আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড নওগাঁ-০৬ আসনে সৌজন্য সাক্ষাতে রাজনৈতিক সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন নওগাঁয় ৫টি আসনে বিজয়ী বিএনপি, ১টিতে জামায়াত নওগাঁ-০৬ আসনে ধানের শীষের জয়, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নওগাঁ-০৬ আসনে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খালেদা জিয়াই হতে পারেন বিএনপি বিজয়ের ট্রাম কার্ড নওগাঁ-৬ (আত্রাই–রাণীনগর) আসনে ৩৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত

নিখোঁজ যুবকের সন্ধান: মাদক কারবারির বাড়ি খুঁড়ে মিলল হাড়-মাথার খুলি

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪

সাভার প্রতিনিধি;
প্রায় ১ বছর ২ মাস আগে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তোফাজ্জল হোসেন ওরফে টুনো (২৮)। অপর একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামীদের দেওয়া তথ্যে টুনোকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারে ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে সাভারের আনন্দপুর সিটি লেনে মাদক কারবারি স্বপনের দুইতলা ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষে মাটি খুড়ের তাঁরা। মাটির ৭ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় বেশ কয়েকটি হাড় ও মাথার খুলি। এছাড়া একই স্থান থেকে পাওয়া একটি শার্ট টুনোর বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ বলেছেন, টুনো নিখোঁজের সময় সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রেপ্তার আসামী ও পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুসারে হাড় ও মাথার খুলি টুনোর বলে মনে হচ্ছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গত ২ জুন সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকা থেকে সীমা আক্তার নামে এক নারী নিখোঁজ হন। বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মোবাশশিরা হাবীব খানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া খনিজনগর এলাকায় মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় সীমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাইফুল সাভারের আনন্দপুর সিটি লেনে মাদক কারবারি স্বপনের দুইতলা ফাঁকা বাড়ির নিচতলায় মাটির নিচে টুনোকে হত্যার পর পুতে রাখা হয়েছে বলে ডিবিকে জানান। ডিবি ওই তথ্যের সূত্র ধরে গতকাল সোমবার ওই বাড়িতে মাটি খুঁড়া শুরু করেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন মরদেহের সন্ধান পাননি তাঁরা। আজ মঙ্গলবার ধামরাই উপজেলার কুল্লা থেকে মাদক কারবারি স্বপনকে গ্রেপ্তার করেন তাঁরা। স্বপনের দেয়া তথ্যে ওই বাড়িতে পুনরায় খুড়ে ৭ ফুট মাটির নিচ থেকে বেশ কয়েকটি হাড় ও মাখার খুলি উদ্ধার করেন তারা।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সীমা অপহরণ এবং পরবর্তীতে যে সীমা হত্যাকান্ড, এই মামলার সূত্র ধরে ঢাকা জেলা পুলিশের ডিবি ও সাভার থানা পুলিশ সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় সাইফুল আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ও কিভাবে সিমাকে মারলেন ও হত্যাকাণ্ড করলেন এই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে ও আদালতে আরও পাঁচ জনের নাম প্রকাশ করেন। সেখানেই স্বপনের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ধামরাইয়ের কুল্লা এলাকা থেকে আসামি স্বপনকে ডিবি গ্রেপ্তার করে। এরই মধ্যে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে টুনো নামে এক ব্যক্তির আরেকটি অপহরণের ঘটনা ঘটে। যে ঘটনা সাভার থানা পুলিশ তদন্ত করছিল, সেই ঘটনায়ও আমরা স্বপনের নাম পাই।

তিনি বলেন, স্বপনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডেও স্বপন তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। সে তাকে অপহরণ করে হত্যার পর তার নির্মাণাধীন বাড়ির নিচে মাটি চাপা দেয়। স্বপন একজন সিরিয়াল কিলার। সে মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে ডিবির একটি টিম স্বপনের স্ত্রী ও স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় স্বপন সিমাকে হত্যা করে। একই রকম কারণে সে টুনোকেও হত্যা করে।

মরদেহ সনাক্তের বিষয়ে এসপি বলেন, এখানে লাশের পাশে যে শার্টটি পাওয়া গেছে, সেদিনের অপহরণের আগ মুহূর্তে একই শার্ট তার পরনে ছিল। তার স্ত্রী এসে শার্টটি শনাক্ত করেন। এর পরবর্তীতে আমরা ডিএনএ করে লাশটি টুনোর কিনা তা নিশ্চিত হব। তবে প্রাথমিকভাবে স্বপন স্বীকার করেছে, এটি সেই ঘটনা ও এটি টুনোর মরদেহ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবো এই আরও কোনো নিখোঁজের অভিযোগ থাকলে সেটি ধরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি বলেন, মূলত মাদকের ব্যবসার কারণেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় অপহরণ করা হয়, তাকে শ্বাসরোধ করে মাটি চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আরও কে কে জড়িত ছিল সে বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

নিখোঁজ টুনোর চাচা ওসমান গণি বলেন, ইয়াবা ট্যাবলেটের বিরোধ ধরেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। স্বপন ১০-১২ জন শ্রমিক রেখে আনন্দপুরে ইয়াবা বিক্রি করতো। একইভাবে ইয়াবা ইমান্দিপুরেও পাঠাতো। কিন্তু টুনোরা প্রতিবাদ করতো যাতে ইমান্দিপুরে ইয়াবা না পাঠায়। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব লাগতো। নিখোঁজের সময় ছিল রোজার মাস। ২৮ রমজানে সে আমার সঙ্গে তারাবি পড়ছে। তারপরই নিখোঁজ। আর খুঁজে পাইনি। থানায় বলেছি, অভিযোগ করেছি। অবশেষে ডিবি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এই লোক সন্ত্রাস। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই, ওর ফাঁসি চাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :