মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি: ঢাকার সাভার এলাকায় মেলার আয়োজনের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে উল্টো ভুক্তভোগীকেই গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ সুলতান মাহমুদ সোহাগ লিখিত অভিযোগে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাভারের একটি বালুর মাঠে তিনি একটি মেলার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় কর্তৃপক্ষ সেটি বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত সেজুতি হোসাইন (৩০)—যিনি নিজেকে ঢাকা জেলা উত্তর আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দেন—সহ অরিন হোসাইন (৩৫) ও মুন্না (২৪) তাকে আশ্বাস দেন যে তারা প্রশাসনিক অনুমতি এনে পুনরায় মেলার আয়োজন করে দেবেন।
এই মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে মোট ২,১৫,০০০ (দুই লক্ষ পনেরো হাজার) টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু সময় গড়ালেও অভিযুক্তরা কোনো ধরনের অনুমতি সংগ্রহ করতে পারেনি, বরং প্রতারণার নতুন ফাঁদ পেতে তাকে আবারও অনুমতি ছাড়াই মেলা আয়োজনের জন্য চাপ দিতে থাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কথামতো পুনরায় মেলা আয়োজন করলে প্রশাসন আবারও সেটি বন্ধ করে দেয়, ফলে ভুক্তভোগী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর তিনি টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা, কালক্ষেপণ এবং প্রতারণার নতুন নাটক।
ঘটনার চূড়ান্ত পর্যায়ে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ভুক্তভোগী তার পাওনা টাকা ফেরতের জন্য সাভারের ওয়াপদা রোডে অভিযুক্তদের বাসায় গেলে, তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়—এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের অংশ, যারা মেলার অনুমতির নামে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত সেজুতি হোসাইনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে—কতটা শক্তিশালী হলে একজন ভুক্তভোগীর টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো তাকেই হুমকি দেওয়া যায়? প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের প্রতারণা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কত দ্রুত এ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করতে পারে।
Leave a Reply