আত্রাইয়ে তদন্ত কর্মকর্তা
মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে আদালতে চলমান একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ‘মনগড়া তথ্য’ সংযোজন ও যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. মুনি বিবি।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বাদী মুনি বিবি নওগাঁর আত্রাই আমলী আদালতে ২২৩ সি/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন পিবিআই, নওগাঁ কর্তৃক আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, বাদী ও তার মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে সি.আর ২৬৯/২৬ (আত্রাই) নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির ধারায় এফএম মনসুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মুনি বিবির অভিযোগ, প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলার আরজিতে ভূমি প্রতারণা বা ভূমি জালিয়াতি সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণনা না থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদনে এমন একটি বিষয়কে ‘Fact in issue’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সঙ্গে মামলার মূল অভিযোগের সামঞ্জস্য নেই।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. শাহজাহান ইসলাম যথাযথভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। বাদীর দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অংশে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে আসামিরা বাদীর তফসিলভুক্ত সম্পত্তি দখল করেছে কি না-যদিও বাদীপক্ষের মতে, সংশ্লিষ্ট মামলার আরজিতে এ ধরনের বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।
এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, অসত্য ও যোগসাজশপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মুনি বিবি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে মুনি বিবি বলেন, একজন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু তদন্তেই যদি অভিযোগের বাইরে নতুন তথ্য সংযোজনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, কোনো পক্ষের প্রভাব বা যোগসাজশে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়ে থাকলে তা শুধু মামলার বাদী-বিবাদীর অধিকার ক্ষুণ্ন করে না, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতিও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগটির দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা ও তদন্ত প্রতিবেদনের যথার্থতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন উঠছে-মামলার আরজিতে যে বিষয় নেই, তদন্ত প্রতিবেদনে সেটি ‘Fact in issue’ হিসেবে কীভাবে এলো? এর উত্তরই এখন খুঁজছেন অভিযোগকারী মুনি বিবি।
Leave a Reply