আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নারীসহ দুইজনকে মারধর, বসতঘরের দরজায় ইট ও বাঁশের লাঠি দিয়ে হামলা এবং গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছা. ওয়াহেদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিয়াবাড়ী গ্রামের ওয়াহেদা বেগমের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার মো. নিলয়, মো. ভুট্ট, মোছা. আয়না বেগম ও মোছা. মৌ আক্তারের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওয়াহেদার দাবি, অভিযুক্তরা তাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা ওয়াহেদা বেগমের বসতবাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় ওয়াহেদার মা মোছা. মাহমুদা (৬০) গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় ওয়াহেদা বেগমকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করা হয়। একপর্যায়ে বসতঘরের দরজায় ইট ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ওয়াহেদার অভিযোগ, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। পরে অভিযুক্তরা সুযোগ পেলে তাদের আরও গুরুতর ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত মাহমুদাকে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওয়াহেদা বেগমও সেখানে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ওয়াহেদা বেগম। এ বিষয়ে তিনি আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, রাস্তা বন্ধের অভিযোগ এবং নারীসহ দুজনকে মারধরের বিষয়টি এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীর পরিবার।
Leave a Reply