আবু সুলতান আহমেদ,জেলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ অনুমোদিত প্রক্রিয়া ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় দুটি ভ্যানসহ পরিষদের কয়েকটি জানালা আটক করে স্থানীয়রা এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ঘেরাও করে রাখে তারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সরকারি জানালাগুলো দুটি ভ্যানে করে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির দিকে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা ভ্যান দুটির গতিরোধ করে জানালাগুলো জব্দ করেন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ছুটিতে থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ চেয়ারম্যানকে নিরাপত্তা দিয়ে পিকআপে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
এদিকে উদ্ধার করা জানালাগুলো সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা ভূমি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, “সরকারি সম্পদ অন্যত্র নেওয়ার সময় জনগণ মালামাল জব্দ করেছেন। আমরা এসে সেগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছি।” চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন অপরাধ স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে ভোঁপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল হক বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এসব সম্পদ অপসারণ, হস্তান্তর কিংবা নিলামের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া জানালা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের আলোতে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সময় মালামাল আটক হলেও ঘটনার তাৎক্ষণিক আইনগত নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগে আটক হওয়ার পরও কেন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হলো না।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের জানালাগুলো কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ সরানোর ঘটনায় বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘোষণা দিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেওয়া হবে না। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply