মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত বেলি ব্রিজটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক আতঙ্কের নাম। ১৯৯৪ সালে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ আলাউল ইসলাম দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিজটির লোহার পাতগুলোতে সময়ের ব্যবধানে অসংখ্য ছোট-বড় ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, কারণ ব্রিজটিতে কোনো ধরনের লাইটিং ব্যবস্থা নেই। ফলে অন্ধকারে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
গত দুই দিন আগে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এক নারী পথচারীর পা ব্রিজের একটি ছিদ্রে আটকে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির এমন বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ছিল স্পষ্ট। তারা বলছেন, প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ব্রিজটি এখন কার্যত “মৃত্যু ফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
তবে সম্প্রতি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আলাউল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সেই সাথে নওগাঁ রোড এন্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উনারাও বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত সংস্কার করার আশ্বাস দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অস্থায়ী সংস্কার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি টেকসই সমাধান জরুরী।
কারণ আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের জন্য এই ব্রিজটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো বেলি ব্রিজগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে, আত্রাই বেলি ব্রিজের বর্তমান অবস্থা যেমন জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকির প্রতিচ্ছবি, তেমনি প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিশ্রুত সংস্কার কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং জনগণ কতটা নিরাপদ চলাচলের সুযোগ ফিরে পায়।
Leave a Reply