1. ssexpressit@gmail.com : admin :
  2. dailynatundiganto@gmail.com : Homayon Kabir : Homayon Kabir
সর্বশেষ :
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সাভারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছে শেখ সোলায়মানের নতুন গান ‘মানব জীবন’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে নওগাঁয় যুবদলের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নওগাঁয় যুবদলের কর্মসূচি, আহ্বানে রুহুল আমিন মুক্তা আত্রাই জমকালো আয়োজনে মেহেদী খেলাঘরের দ্বিতীয় আউটলেট উদ্বোধন সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুলাই যোদ্বা তমিজ উদ্দিনকে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পিয়ন থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য: জলিলের সম্পদের উৎস নিয়ে শত প্রশ্ন আশুলিয়ায় যুবক নিখোঁজ, থানায় জিডি

ঈদ ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু আনন্দ নেই: আত্রাইয়ে শোকের ছায়ায় একটি অসহায় পরিবার

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার দিঘীরপাড়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের একটি পরিবারে এবার ঈদ আসছে নিঃশব্দ কান্না আর বুকভরা বেদনার মধ্য দিয়ে। যেখানে চারদিকে ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি, নতুন পোশাক আর হাসিখুশি মুখে উৎসবের আমেজ—সেই সময় রহিম শেখের পরিবারে নেমে এসেছে একের পর এক শোকের কালো ছায়া।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর সোমবার নির্মম এক ঘটনার শিকার হন রহিম শেখ। পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের চাচার হাতেই খুন হন তিনি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসে পরিবারটিতে। ক্যান্সারে দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত থাকা রহিমের স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভরসা আর আশ্রয় যেন একসাথে ভেঙে পড়ে। স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে তাদের দুইটি অবুঝ সন্তান এখন হয়ে পড়েছে সম্পূর্ণ অসহায়। ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কন্যা সন্তান এবং মাত্র ৩ বছর বয়সী ছোট্ট ছেলে—এই দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢাকা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রহিম শেখই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার হাত ধরেই চলত পুরো সংসার। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট ছোট দুটি শিশু এখন দিশেহারা। তাদের দেখভালের দায়িত্ব এসে পড়েছে রহিমের ৮৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের ওপর, যিনি নিজেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং কোনো কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই।

এদিকে ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। চারদিকে যখন উৎসবের আনন্দ, নতুন কাপড় কেনার ব্যস্ততা আর খুশির জোয়ার—তখন রহিম শেখের এই ছোট্ট ঘরটিতে নেই কোনো হাসি, নেই কোনো উৎসবের প্রস্তুতি। আছে শুধু শোকের ভার, নিঃশব্দ কান্না আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গ্রামবাসীরা মনে করেন, শুধু আশ্বাস নয়—এই কঠিন সময়ে মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক সহযোগিতাই পারে পরিবারটির কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে।

গ্রামের মানুষ বলছেন, যেখানে অন্যদের ঘরে ঈদের আনন্দের আলো জ্বলবে, সেখানে রহিম শেখের পরিবারে জ্বলছে শুধু শোকের প্রদীপ। ঈদের আনন্দ তাদের কাছে এখন আর নতুন কাপড় বা মিষ্টির নয়—বরং বেঁচে থাকার লড়াই, অভাব আর বুকভরা বেদনার আর্তনাদ।

এই অসহায় পরিবারটির দিকে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কারণ একটু সহায়তা, একটু মমতা হয়তো এই অনাথ হয়ে পড়া দুই শিশুর জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ :