মো. শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি আগস্ট মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে অন্তত চার নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ ও পুলিশ-পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বয়স ২২ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তবে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ঘটনাকেই চূড়ান্তভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট উপজেলার বলরামচক এলাকায় গীতা রাণী (৫৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে স্বজনদের ধারণা। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আইনগত তদন্তের বিষয়।
এরপর ২৪ আগস্ট উপজেলার নবাবেরতাম্বু গ্রামে শারমিন খাতুন (২২) নামে এক তরুণী গৃহবধূর গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মো. আব্দুল ওহায়েদের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে তার কলহ চলছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।
এর মাত্র তিন দিন পর ২৭ আগস্ট উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের হাটুরিয়া গ্রামে নাসরিন বানু (৫৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের তজের আলীর স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একাধিকবার ব্রেইনস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। স্বামী মাঠে যাওয়ার পর গোয়ালঘরের বাঁশের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
সবশেষে ৩০ আগস্ট উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের বড় রসুলপুর জেলেপাড়া গ্রামে সুকৃতি রানী (২১/২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত সুধর্নের মেয়ে এবং শ্রী কিশোর কুমারের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কোনো বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এক মাসে চার মৃত্যু, কারণ অনুসন্ধানের দাবি
আগস্ট মাসে আত্রাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে চার নারীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একই মাসে একাধিক নারীর এমন মৃত্যু সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রকাশিত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও আর্থিক চাপ কিংবা মানসিক অসুস্থতার কথা উঠে এসেছে। তবে এগুলো কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেই চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার কথা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা চরম সংকটে থাকলে তাকে একা না রেখে পরিবারের সদস্যদের নজরদারি, সহানুভূতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে আত্রাই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply