স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ফেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাভারের এ.আর অনিককে ঘিরে ওঠা অভিযোগ যেন সেই পুরোনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে এনেছে। একসময় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত অনিক এখন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। আর এ নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এ.আর অনিক। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রচার করেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা।
আরও অভিযোগ, ক্ষমতার পালাবদলের পর হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ছাত্রলীগের রাজনীতির আড়ালে অনিক মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিপক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও তাকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ছাত্রদলের পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শের পরিবর্তে সুবিধাবাদী রাজনীতি ও অনুপ্রবেশের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দলগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হবেন।
Leave a Reply