মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:ঢাকার ধামরাইয়ে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় নারীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আফরোজা আক্তার (২৮) মানিকগঞ্জ জেলার বারাহিরচর এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধামরাই উপজেলার ঢুলিভিটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে ধামরাই থানাধীন স্লোটেক্স গেট সংলগ্ন ফুটপাতে একটি ছোট ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসা পরিচালনার সময় আনিছুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্ত আনিছুর নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালী যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে নানা প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি স্লোটেক্স এলাকার আশপাশে একটি ভালো দোকান ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই সুযোগে দোকান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরই বদলে যেতে থাকে তার আচরণ। দোকান দেওয়ার আশ্বাসের আড়ালে শুরু হয় নানাভাবে চাপ ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব। শুরুতে ভুক্তভোগী এসব প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকান ও টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে বারবার বিভিন্ন স্থানে ডেকে নিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে ধামরাই থানাধীন স্লোটেক্স গার্মেন্টস সংলগ্ন আমিন মডেল টাউন এলাকার একটি বাসায় দোকান ও পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শুধু একবার নয়, একই কৌশলে বিভিন্ন সময় ওই বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও তাকে একই বাসায় ডেকে নেন। সেখানে দোকান ও টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আগের মতোই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে এলাকা ছাড়া করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তিনি আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ভীতির কারণে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করতে পারেননি। অবশেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে তিনি ধামরাই থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply