মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ঐতিহাসিক ও রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত পতিসরের পুণ্যভূমিতে আজ যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এই স্থানে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পতিসর এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সাজানো হয়েছে পুরো রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণ। প্রবেশপথ, মূল মঞ্চ এবং দর্শনার্থী এলাকা বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণমূলক নানা পর্ব।
এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও জননেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, নাটোরের গর্ব ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাঙালি সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর চিন্তা, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের জীবনবোধ, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনায় প্রেরণা জোগায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস। জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
সার্বিকভাবে, বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পতিসর আজ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এই ঐতিহাসিক স্থানে এমন আয়োজন স্থানীয়দের পাশাপাশি আগত দর্শনার্থীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
Leave a Reply