মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা সামনে এসেছে। যে সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের সবটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এক মা, সেই সন্তানদের কাছেই আজ অবহেলিত ও অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের সম্পূর্ণ জমিজমা ও সম্পত্তি সন্তানদের নামে লিখে দেন ওই বৃদ্ধা মা। ভেবেছিলেন, জীবনের শেষ সময়টুকু সন্তানদের স্নেহ-ভালোবাসা আর আশ্রয়ে কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঠিক উল্টো।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মা এখন নিজের ঘরেই যেন পরবাসী। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হয়েও মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পাননি তিনি। অভিযোগ, ভরণপোষণ ও আশ্রয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আত্রাই উপজেলার ০৬ নং মনিয়ারী ইউনিয়নের পাগলার মোড় এলাকা থেকে থানায় এসে অভিযোগ জানান এই বৃদ্ধা মা।
প্রশ্ন উঠেছে—কতটা অসহায় হলে একজন মা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের সন্তানদের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হন? কতটা কষ্ট জমে থাকলে চোখের জল মুছে ন্যায়বিচারের জন্য পুলিশের কাছে যেতে হয়?
যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানদের পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাদের মানুষ করেন, সেই মায়ের শেষ বয়সে কি একটু আশ্রয়, একটু ভালোবাসা আর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার নেই?
স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, একজন বৃদ্ধা মায়ের এই পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই লজ্জার।
এদিকে থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিকল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন এবং নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া এই বৃদ্ধা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মরিয়ম বেগম বলেন, “আমার নিজের ছেলে- মেয়েরাই আমাকে নির্যাতন করছে। আমার জমি দখল করে রেখেছে, কিন্তু আমাকে কোনো খরচ দেয় না। মারধর করে বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে আত্রাই থানার অফিসাস ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম বলেন,অভিযোগ টি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
একজন মায়ের চোখের জল কখনোই কোনো সন্তানের জন্য গৌরবের বিষয় হতে পারে না। সমাজের প্রতিটি সন্তানের কাছে বার্তা হোক—মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।
Leave a Reply