মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে একের পর এক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনের আলো কিংবা গভীর রাত—কোনো সময়ই যেন নিরাপদ নয় এই সড়ক। বিশেষ করে আত্রাই উপজেলার থাঐপাড়া সংলগ্ন মহাসড়ক এখন পথচারী ও যানবাহন চালকদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত আত্রাই উপজেলার থাঐপাড়া এলাকার দক্ষিণ ভাঙাব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন আটকে ডাকাতি চালায়। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে একই এলাকায় আবারও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আত্রাই-নাটোর মহাসড়কের শেষ সীমানায় মধ্য সেতু থেকে প্রায় ৪০০ গজ উত্তরে আমরুল কসবা মৌজার পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক মো. আল আমিন (পিতা- আজিজুল হক), রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি আত্রাই বাজার থেকে নতুন কাপড় কিনে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তার বাম হাতে চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে তার কাছে থাকা নগদ ১৬ হাজার ২০০ টাকা এবং কেনা নতুন কাপড় ছিনিয়ে নিয়ে নাটোরের দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহাসড়কটিতে প্রায়ই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। নিয়মিত টহল ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা বারবার একই স্থানে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “একই জায়গায় বারবার ডাকাতি ও ছিনতাই হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
এ বিষয়ে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল দ্রুত পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। মহাসড়কে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হবে।”
Leave a Reply