সাভার প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারে একটি বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে নগদ ২৮ লাখ টাকা ও ২২ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৮৪ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির ভাড়াটিয়া তৃতীয় লিঙ্গের শাপলা চৌধুরী (৪৫) সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
গত ৩ আগস্ট রাতে সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় সাবাব হোসেন ভূঁইয়ার বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাপলা চৌধুরী জানান, রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৩ আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে শয়নকক্ষের দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে আসবাবপত্রও এলোমেলো ছিল। পরে কাঠের আলমারির লক ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। আলমারিতে রাখা নগদ ২৮ লাখ টাকা ও আনুমানিক ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নেই।
এ ছাড়া একই বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া সুমন, রুবেল ও ঝর্না বেগমের তিনটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এসব ফোনের আনুমানিক মূল্য ২৯ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ৩ আগস্ট শাপলা চৌধুরী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি সাভার মডেল থানার মামলা নম্বর ২১।
চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। তিনি বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং চুরির আলামত পর্যালোচনা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে চুরি যাওয়া টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম কালবেলাকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই একই দিনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চোরেরা কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে, ঘটনায় কারা জড়িত এবং চুরির সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না,এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন শাপলা চৌধুরী। তার দাবি, চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার তার দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। এগুলো উদ্ধার না হলে তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়বেন।
শাপলা চৌধুরী বলেন, থানার ওসি আমার বাসায় আইছে, এতেই আমি খুশি। আমার মালামালগুলো উদ্ধার হইলেই বাঁচি। টাকা আর মালামাল না পেলে না খেয়ে মরতে হবে। চুরি হওয়া টাকা এবং মালামাল সবগুলো আমার নয়। এগুলো সাভারে বসবাসরত সকল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আমার কাছে গচ্ছিত রেখেছিল একটি জায়গা কিনে বসবাসের স্থান তৈরির জন্য। চুরি যাওয়া সর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা উদ্ধারে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
ছবি ক্যাপশন :ছবিতে পুলিশের সামনে কান্নারত ভুক্তভোগী শাপলা চৌধুরী এবং ওসি
Leave a Reply