মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার সাভারের চিহ্নিত মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত অমরপুর ও পোড়াবাড়ি বেদে পল্লীতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনী, সাভার উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় কুখ্যাত দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে সাভারের এই বেদে পল্লীটি মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র নির্দেশে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) এলাকাটিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
উদ্ধার ও গ্রেপ্তার: অভিযান চলাকালীন মাদক কারবারিদের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা ও বেশ কয়েক কেজি গাঁজা। এছাড়া মাদক বিক্রির বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং কারবারে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী দুই নারী সদস্য।
প্রশাসনের বক্তব্য: অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের জানান, “সাভারকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। মাদকের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমাদের এই যুদ্ধ চলবে।”
জনমনে স্বস্তি: বেদে পল্লীর মতো দুর্ভেদ্য এলাকায় যৌথ বাহিনীর এই আকস্মিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পল্লীকে কেন্দ্র করেই পুরো সাভারের তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। প্রশাসনের এমন কড়া পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
আপনি কি এই নিউজটি কোনো ফেসবুক পেজ বা অনলাইনের জন্য আরও সংক্ষিপ্ত ও বুলেট পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দিতে চান?
Leave a Reply