মো.শিফাত মাহমুদ ফাহিম,বিশেষ প্রতিনিধি:নওগাঁ জেলা আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে বিজয়ী দলের উপর পরাজিত দলের শিক্ষার্থীদের (খেলোয়াড়) নৃশংস সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাণীনগর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী—
দিনের খেলার মাঠে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ ৩–০ গোলে সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে পরাজিত করে। খেলার পর মাঠের উত্তেজনা শেষ না হতেই পরাজয়ের ক্ষোভ থেকেই সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের খেলোয়াড়রা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পথরোধ করে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের খেলোয়াড়দের উপর একের পর এক আঘাত হানতে থাকে। এতে মোট ১২ জন খেলোয়াড় আহত হন, যার মধ্যে তানভীর, নিরব,শাওনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সবচেয়ে গুরুতর আহত হন দলের ক্যাপ্টেন ও নওগাঁ ফুটবল উন্নয়ন ক্লাবের সদস্য তানভির ইসলাম জীবন। তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার সময় তিনটি ইজিবাইক ভাঙচুর, খেলোয়াড়দের ১২–১৩টি মোবাইল ফোন ছিনতাই, ক্যামেরা ও খেলাধুলার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও উঠেছে সায়েম উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের (খেলোয়াড়) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের পরিবার, সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে,এই নেক্কার জনক ঘটনার প্রতিবাদে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।উক্ত মানববন্ধন থেকে দোষীদের অতিদ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান উপস্থিত শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বক্তব্য ও শিক্ষকরা।
বিষয়টি নিয়ে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন বলেন, গতকালের ঘটনা অন্তত লজ্জাজনক।খেলা হারজিত থাকবে তাই বলে এভাবে হামলা করা কতটা যৌক্তিক? আমরা আমাদের কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।সেই সাথে এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছে আমি সর্বক্ষণ তাদের খোঁজ খবর রাখছি এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত হাসান,সাধারণ সম্পাদক সাজু মৃধা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ রাহুল হোসেন সহ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সেই সাথে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সাথে মতবিনিময় করে এ ঘটনার সুষ্ঠু দাবি জানিয়েছেন আত্রাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.তসলিম উদ্দিন সহ থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি—ঘটনার পেছনে কিছু শিক্ষকের প্ররোচনাও থাকতে পারে।
Leave a Reply